উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর — ফারায়েজ ও দায়ভাগ
ইসলামী ফারায়েজ ও হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের নির্ভুল হিসাব — জবিউল ফুরুজ, আসাবা, আউল ও রাদ্দ নীতিসহ।
☪️ মুসলিম উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর (ফারায়েজ)
📖 জবিউল ফুরুজ (নির্ধারিত অংশীদার) — ১২ জন
এদের অংশ পবিত্র কোরআন শরীফে নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। জবিউল ফুরুজ হলো ১২ জন — ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন মহিলা।
৪ জন পুরুষ: (১) স্বামী, (২) পিতা, (৩) দাদা, (৪) সৎ ভাই (বৈপিত্রেয়)।
৮ জন মহিলা: (১) স্ত্রী, (২) কন্যা, (৩) পুত্রের কন্যা, (৪) মাতা, (৫) দাদি ও নানি, (৬) সহোদর বোন, (৭) সৎ বোন (বৈমাত্রেয়), (৮) সৎ বোন (বৈপিত্রেয়)।
- স্বামী ১/৪ পাবে যখন সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে।
- স্বামী ১/২ পাবে যখন সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
- স্ত্রী ১/৮ পাবে যখন সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে।
- স্ত্রী ১/৪ পাবে যখন সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
- কন্যা ১/২ পাবে যখন একজন মাত্র কন্যা থাকে এবং পুত্র না থাকে।
- কন্যা ২/৩ পাবে যখন দুই বা ততধিক কন্যা থাকে এবং পুত্র না থাকে।
- কন্যা অবশিষ্ট ভোগী হিসাবে পাবে যখন এক বা একের অধিক পুত্র থাকে।
- পুত্রের কন্যা ১/২ পাবে যখন একজন মাত্র পুত্রের কন্যা থাকে।
- পুত্রের কন্যা ২/৩ পাবে যখন দুই বা ততধিক পুত্রের কন্যা থাকে।
- পুত্রের কন্যা অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে পাবে; পুত্রের পুত্র না থাকলে সমান অংশ আইন অনুযায়ী।
- পিতা ১/৬ পাবে যখন পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে।
- পিতা ১/৬ + অবশিষ্ট পাবে যখন এক বা একের অধিক কন্যা থাকে।
- পিতা অবশিষ্ট অংশ ভোগী হিসেবে পাবে যখন পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে।
- মাতা ১/৬ পাবে যখন পুত্র ও পুত্রের পুত্র এবং দুই বা ততধিক ভাই-বোন এবং পিতা থাকে।
- মাতা ১/৩ পাবে যখন পুত্র অথবা পুত্রের পুত্র এবং একের অধিক ভাই-বোন না থাকে।
- মাতা ১/৩ পাবে (উমরাইয়্যাহ) যখন স্ত্রী, স্বামী এবং বাবা থাকে — প্রকৃতপক্ষে ১/৬।
- দাদা ১/৬ পাবে যখন সন্তান এবং পুত্রের সন্তান থাকে এবং পিতা না থাকে।
- দাদা অবশিষ্ট অংশ ভোগী হিসেবে ১/৬ পাবে যখন কন্যা অথবা পুত্রের কন্যা থাকে।
- দাদা অবশিষ্ট অংশ ভোগী হিসেবে পাবে যদি দূরবর্তী কোন অংশীদার না থাকে।
- দাদি ১/৬ পাবে যদি কোন মাতা বা মায়ের দিকে দাদি না থাকে।
- পূর্ণ বোন ১/২ পাবে যখন একজন মাত্র বোন থাকে এবং সন্তান, পুত্রের সন্তান, পিতা অথবা ভাই না থাকে।
- পূর্ণ বোন ২/৩ পাবে যখন দুই বা ততধিক বোন থাকে এবং সন্তান, পুত্রের সন্তান, পিতা ও ভাই না থাকে।
- বোন অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে পাবে যখন পূর্ণ ভাই থাকে বা এক বা একাধিক পুত্রের কন্যা থাকে।
- বৈমাত্রেয় বোন ১/২ পাবে যখন একজন মাত্র বোন থাকে এবং সন্তান, পিতা ও পূর্ণ ভাই-বোন না থাকে।
- বৈমাত্রেয় বোন ২/৩ পাবে যখন দুই বা ততধিক বৈমাত্রেয় বোন থাকে।
- বৈমাত্রেয় বোন ১/৬ পাবে যখন একজন পূর্ণ বোন থাকে (পূর্ণ বোন ১/২ + বৈমাত্রেয় বোন ১/৬)।
- বৈমাত্রেয় বোন অবশিষ্ট অংশ ভোগী হিসেবে পাবে যখন কোন বৈমাত্রেয় ভাই, কন্যা ও পুত্রের কন্যা না থাকে।
- বৈমাত্রেয় ভাই ১/৬ পাবে যখন শুধুমাত্র একজন থাকে এবং সন্তান, পিতা না থাকে।
- বৈপিত্রেয় ভাই ১/৩ পাবে যখন দুই বা ততধিক থাকে এবং সন্তান, পিতা না থাকে।
- বৈপিত্রেয় বোন ১/৬ পাবে যখন একমাত্র থাকে এবং সন্তান, পিতা না থাকে।
- বৈপিত্রেয় বোন ১/৩ পাবে যখন দুই বা ততধিক থাকে এবং সন্তান, পিতা না থাকে।
শুধু পুরুষ বা মহিলা আসাবা থাকলে সম্পূর্ণ অবশিষ্টাংশ পাবেন; একই শ্রেণীর পুরুষ-মহিলা একত্রে থাকলে ২:১ অনুপাতে পাবেন।
❓ বাস্তব উদাহরণ ও সমাধান (২৩টি)
০১ ভাই, বোন ও কন্যা রেখে গেছেন — বণ্টন?▾
০২ পুত্র, কন্যা ও বোন রেখে গেছেন?▾
০৩ পিতা, দাদা, মাতা, দাদি, কন্যা ও পুত্রের কন্যা রেখে গেছেন?▾
০৪ মাতা, ভাই, বোন ও কন্যা রেখে গেছেন?▾
০৫ মাতা, দাদি, নানি ও চাচা রেখে গেছেন?▾
০৬ কন্যা, মাতা ও বোন রেখে গেছেন?▾
০৭ মাতা, পিতা ও স্ত্রী রেখে গেছেন?▾
০৮ স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা রেখে গেছেন?▾
০৯ স্ত্রী, ভাই ও বোন রেখে গেছেন?▾
১০ মাতা ও পুত্র রেখে গেছেন?▾
১১ মাতা ও কন্যা রেখে গেছেন?▾
১২ মাতা, কন্যা ও বোন রেখে গেছেন?▾
১৩ স্ত্রী, ১ সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও ২ বৈপিত্রেয় বোন?▾
আউল = ৩/১৫ + ৬/১৫ + ২/১৫ + ৪/১৫
১৪ পিতা, মাতা, স্বামী, ২ কন্যা ও পুত্রের কন্যা?▾
আউল = ২/১৫ + ২/১৫ + ৩/১৫ + ৮/১৫ + ০
১৫ পিতার পিতা, পিতা, স্বামী, ২ কন্যা, পুত্রের কন্যা ও সহোদর বোন?▾
১৬ কন্যা, ভাই, মাতা ও বোন?▾
১৭ কন্যা, স্ত্রী, ভাই ও বোন?▾
১৮ পিতা, মাতা, স্ত্রী ও ভাই?▾
১৯ স্বামী, কন্যা, পিতা ও মাতা?▾
আউল = ৩/১৩ + ৬/১৩ + ২/১৩ + ২/১৩
২০ স্ত্রী, ২ কন্যা, পিতা ও মাতা?▾
২১ স্বামী, মাতা, ২ সহোদর বোন ও ২ বৈপিত্রেয় বোন?▾
২২ মাতা, কন্যা ও স্ত্রী?▾
রাদ্দ = ৭/৩২ + ২১/৩২ + ১/৮
২৩ স্বামী ও ৩ কন্যা?▾
রাদ্দ = ১/৪ + ৩/৪
⚙️ সম্পত্তি বণ্টন প্রক্রিয়া — ৪টি ধাপ
- ধাপ ১ — প্রথমে সম্পত্তি জবিউল ফুরুজদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।
- ধাপ ২ — আউল: জবিউল ফুরুজদের অংশসমূহ যোগ করার পর সম্পূর্ণ অংশ ১-এর চেয়ে বেশী হলে, সকল অংশ আনুপাতিক হারে কমে আসবে যাতে সম্পূর্ণ অংশ ১ হয়।
- ধাপ ৩ — রাদ্দ: যদি কোন আসাবা না থাকেন এবং সম্পূর্ণ অংশ ১-এর চেয়ে কম হয়, স্বামী/স্ত্রীর অংশ ছাড়া জবিউল ফুরুজ অংশসমূহ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে। স্বামী/স্ত্রীর অংশ কঠিনভাবে সুনির্দিষ্ট।
- ধাপ ৪ — আসাবা: আসাবা থাকলে অবশিষ্ট অংশ তারা নিম্নের ক্রম অনুযায়ী পাবেন।
0 Comments
thanks for your comments!